মালায়শিয়ায় কোভিড ১৯ আউটব্রেক আর এদেশের হেলথ সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে কয়েকটা চুম্বকীয় অংশ

 

 

মালায়শিয়ায় কোভিড ১৯ আউটব্রেক আর এদেশের হেলথ সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে কয়েকটা চুম্বকীয় অংশ।

এক ।

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে শ্রীপেটালিং নামের একটি মসজিদে তাবলিগ-জমাতের একটা কয়েকদিনের চিল্লার মতো একাটা গ্যাদারিং আর কয়েকদিনের ওভারনাইট স্টেয়িং প্রোগ্রাম হয়। সেখানে প্রায় ১৪-১৬ হাজার মানুষ একত্রিত হয়। যেখানে চায়না, কোরিয়া, বাংলাদেশ, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, ব্রুনাই ইত্যাদি দেশের মানুষজন ছিল।

দুই।

মার্চের আগ পর্যন্ত মালায়শিয়ায় কোভিড ১৯ লোকালি ছড়ায় নাই। যারা আক্রান্ত ছিল তাদের প্রায় সবাই চায়না থেকে আগত ছিল। সংখ্যায় ২৫ জন। এয়ারপোর্টে বিদেশ থেকে আসা সবাইকে জনসমাবেশ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু বিদেশ থেকে আসা কয়েকজন সেই তাবলিগ জামাতে শরীক হন জবসমাবেশ এড়িয়ে চলার বদলে। পরবর্তিতে তাদের বক্তব্য গুলো ছিল নানান রকম। যেমন , খোদা তাদের রক্ষা করবে। ওযু করার জন্য ভাইরাস শরীরে থাকতে পারবে না ইত্যাদি। (নিউজ- নিউ স্ট্রেইটস টাইমস)

তিন।

মার্চের প্রথম সপ্তাহের শেষের দিক থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের পাওয়া যাওয়া শুরু হলো। দ্রুত ট্রেস ব্যাক করে দেখাগেলো সবাই সেই জামাতে অংশ নিয়েছে কিংবা সেই জমাতের অংশগ্রহনকারীদের নিকটস্থ হতেছে।

চার।

তড়িৎ পদক্ষেপ হিসেবে মার্চের ১০ তারিখ নতুন স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডাক্তার আদহাম ও দুইজন ডেপুটি স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডাক্তার নুর আজমি এবং আরোং আগোং কে নিয়োগ দেয়া হয়। এদের মাঝে শেষের জন ছিল বিরোধী দলের। যার কাজ ডাক্তার মন্ত্রীদ্বয়ের যাবতীয় লজিস্টিক সাপর্ট যোগান ও অন্যান্য মন্ত্রনালয়েরদের মাঝে সমন্বয়য় রক্ষা করা। ডাক্তার মন্ত্রীদ্বয় বিশেষত ডেপুটি একজন একটিভ মেডিকেল স্কলার।

পাঁচ।

করোনা আক্রান্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকায় ১৩ তারিখে সকল জনসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়।

ছয়।

লোকাল স্প্রেডিং না কমাতে এবং মেডিকেল সাপোর্টের চাইতে বেশি হয়ে যাওয়া শুরু করায় ১৮ তারিখ পুরো মালায়শিয়া লকডাউন করে দেয়ার নির্দেশ দেন ডাক্তারদের দিয়ে গড়া মন্ত্রীপরিষদ।

সাত।

১৮-৩১ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন রাখার নির্দেষ দেয়া হয়েছিলো। পরে সেটা বৃদ্ধি করে ১৪ এপ্রিল করা হয়। তারপর আবারো বৃদ্ধি করে ২৮ এপ্রিল করা হয়। লকডাউনে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে চলাচল নিষিদ্ধ। জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের অনুমতি নিয়ে যাওয়া যাবে। অনুমতি পত্র ছাড়া অন্য বিভাগে যাওয়া যাবে না।

আট।

রেসিডেন্ট সকুল, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা গুলো আটকে ফেলা হয়েছে দূর্গের মতো। কেউ আসতে পারে না। বাহিরেও যেতে পারে না। ফ্রি খাবার দেয়া হচ্ছে। দরকারি জিনিস অনলাইনে অর্ডার করলে দিয়ে যাচ্ছে অথবা সিকিউরিটি ভেতরে অবস্থানকারীদের জন্য সিলেক্টেড শপ থেকে কিনে নিয়ে আসছে।

নয়।

ইনডোর স্টেডিয়াম আর ভেন্যু গুলোতে টেস্টে নেগেটিভদের হোমলেস মানুষদের জন্য ওয়াটার প্রুফ তাঁবু টানিয়ে থাকতে দিচ্ছে।

দশ।

পুলিশের কাজ হলো প্রয়োজনে তাগিদে রাস্তায় চলাফেরা করা মানুষজনের টেম্পারেচার মাপা গাড়ী থামিয়ে থামিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার মতো করে। তাছাড়া কাউকে কাশি হাঁচি দেখতে দেখলে কিংবা টেম্পারেচার হাই হলে নির্দিষ্ট বুথে আর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছে চেকআপের জন্য।

এগারো।

স্প্রেড যেন ক্যাওয়াটিক না হয় তাই করোনা সংক্রান্ত চেক নির্দিষ্ট বুথ ও হাসপাতালে হচ্ছে। বাকি হাসপাতাল গুলো খোলা তবে অন্যান্য উপসর্গ ও চেকআপের জন্য।

বারো।

দুই হাজার বয়স্ক রিটায়ার্ড নার্স ও হেলথ স্পেশালিষ্ট ডাক্তাররা তাদের রিটায়ারমেন্ট ভেঙ্গে হাসপাতাল ও হেলথ সেন্টার গুলোতে আবার ভলেন্টিয়ার হিসেবে রিপ্লেসমেন্ট গিসেবে যোগ দিচ্ছে যখনি নার্সদের সংখ্যায় না কুলোচ্ছে কিংবা কর্মরতরা এফেক্টেড হচ্ছে।

তেরো।

এইমূহুর্তে মালায়শিয়ায় সবচাইতে ক্ষমতাধর দেশের প্রধানমন্ত্রী নয় বরং দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আজ্ঞাবহ মুখপাত্র যে মাঝে মধ্যে নিউজে এসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বীদ্ধ্বান্ত গুলো নিউজ রিপোর্টারের মতো জানানিয়ে থাকেন।

—–
দুঃখিত বাংলাদেশ। এইদিকে হেলথ রিলেটেড ব্যপার গুলো ডাক্তারদের ক্ষমতায় ডাক্তারদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হচ্ছে না বরং প্রধান মন্ত্রী ডাক্তারদের আজ্ঞাবহ দাশ। প্রধানমন্ত্রী জানেন এইটা উনার ফিল্ড না। ডাক্তারদের ফিল্ড। আমলারাও জানে তারা কোন ডিশিসন নেয়ার কেউ না। কোন উপদেষ্টা এসে বলছে না ফুসফুস খুলে কি করতে হবে বা কি খেতে হবে ইত্যাদি। এদের সবার একটাই কাজ, ডাক্তারদের দিয়ে গড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রলায় এর কথা শোনা এই মূহুর্তে। এনিয়ে, ডাক্তাররা সহ কেউ ছয়লাইন বক্তব্য দিতে গিয়ে ছত্রিশবার ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী বলছে না। বরং প্রধানমন্ত্রী সহ সবাই কথার শুরুতে ও শেষে ফ্রন্টলানারদের ধন্যবাদ দিচ্ছে । ফ্রন্ট লাইনার কারা? ডাক্তার, নার্স , সিকিউরিটি , ডেলিভারি ম্যান, ক্লিনার , এরকম যারা কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

—–
এটা এই মূহুর্তে আমার মালয়শিয়ায় চলা কোভিড ১৯ এর সরাসরি দেখা অভিজ্ঞতা। অন্য আরও উন্নত দেশ গুলোর কথা নাই বা বললাম। আফটারল, অন্যদেশ আমি সরাসরি দেখছি না।

Leave a Reply

Close Menu