আওয়ামীলীগের প্রতি জনরোষের শুরুর কারণ

আওয়ামীলীগের প্রতি বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। স্বাধীনতার সময়কার নেতৃত্বের জন্য, সংগ্রামের জন্য, বিপ্লবের জন্য।

কিন্তু এতোসব থাকার পরেও সাধারণের কাছে বর্তমান সময়ে লীগের গ্রহণযোগ্যতা বিলুপ্ত। কিন্তু এমনটা হবার কারণ কি?

কারণ খোঁজার আগে মনে রাখতে হবে একটা সংগঠন একা কেউ চালায় না। চলে সদস্যদের মাধ্যমে। সদস্যদের স্বরূপ প্রতিফলিত হয় দলের ভাভমূর্তির মাধ্যমে। কালে কালে সদস্য পরিবর্তন হয়। যা দলের চেহারাটিই পাল্টে দেয়। তাই পুরনো সেই আদি আওয়ামীলীগ আর বর্তমান আওয়ামীলীগ এক ভাবার কারণ নাই।

যে কোন দেশেই একটা রাজনৈতিক দলের গ্রহণযোগ্যতা সেই দেশের মানুষের কাছে সুখকর কিংবা কষ্টদায়ক সেটা নির্ধারণ করে দলটির তৃনমূল সদস্যদের সাধারণ তৃনমূল জনসাধারণের সাথে করা আচরণ ও ব্যবহার। সেটা আমি সকল ধরণের রাজনৈতিক অবস্থার বাইরে থেকে মনে করি বর্তমান আওয়ামীলীগ করতে ব্যর্থ। আর হবে নাই বা কেন , আমি যখন দেখব আমার এলাকার সবচাইতে দাঙ্গাবাজ ছেলেটি কিংবা খুনের আসামি অথবা ভূমিদস্যু মানুষগুলো যোগ দিচ্ছে আওয়ামীলীগে। সদস্যপদ পাচ্ছে , সেটা ছাপিয়ে দেয়াল ভরে ফেলছে , আগে যাও প্রতিবাদের জন্য মুখ খোলা যেতো, দলীয় পরিচয়ে সেটা হচ্ছে না তখন সেই লোকগুলোর উপরের ঘৃণাটুকু দলের উপরে বর্বরতায়। কারণ দলই তাকে সেই ক্ষমতাটুকু দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে কেন দিয়েছে? কারণ যারা দিয়েছে তারা যোগ্যনয়। অথবা তারা একই রকম কিংবা একই ভাবে নিযুক্ত। তাদের এর চাইতে ভালো কিছু করার সামর্থ্য নাই। মনে রাখা উচিৎ খারাপ ব্যপার গুলো নট রিয়েলি স্প্রেড বাই মিডিয়া, কজ মিডিয়া ক্যান বি কন্ট্রোলড। র‍্যাদার ইট স্প্রেডস ভার্বালি ওভার দ্য টক। যার উপরে নিয়ন্ত্রণ কোন ভাবেই সম্ভব নয়। তাই এই ঘৃণাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না।

আপনি বলতে পারেন এইধরনের অযোগ্যতা লার্জ স্কেলে কিছু থাকবেই । হ্যাঁ থাকবে। কখনো জিরো হবে না। হবে পাঁচ পারসেন্ট দশ পার্সেন্ট। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেটা আশি থেকে নব্বই পার্সেন্টের কম হবে না। তাই আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত নেতা কর্মীদের স্বাভাবিক কাজ যা তাকে নিজ দায়িত্বে করতে হবে সেটা হতে দেখলেও নিউজ হয় স্রোতের বিপরীতে চলা মানুষ বলে। যা কখনোই হতে পারতো না যদি যথেষ্ট যোগ্যরা থাকতো।

আমার পার্সোনাল অভিমত – আওয়ামীলিগের বিরোধী জনরোষের শুরুর কারণ ব্যার্থ তৃণমূল। সেকুলারিজমের নাম নিয়ে জামাতের মতো উগ্র ধর্মবাদের নীতি ফলো করা, ভোট দুর্নীতি, দলীয়করণ, ব্যক্তি-প্রতিষ্টান নির্ভর কোরাপশন, ভঙ্গুর ব্যবস্থাপনা, ধাপ্পাবাজি, চালবাজি, শাহবাগের প্রতিবাদ নিজেদের করায়ত্ব করা, ইত্যাদি অসংখ্য বিষয়ের মতো বাকি গুলো অনেক পরের ব্যপার।


(Picture: Krisno Nogor Dolls, Unknown Photographer)

Opinion by

Ahmed Sanny

Leave a Reply

Close Menu