সূর্য-চন্দ্র গ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশি পত্রপত্রিকার হাস্যকর উপায়ে আজগুবি যোগ সংযোগ করে বিজ্ঞান দিয়ে ধর্ম মহিমান্বিত করার চেষ্টা

একাধিক নিউজ চ্যানেল সহ অনেকেই সূর্যগ্রহনের কারণে কেন কান্নাকাটি করতে হবে সেইটা একটা ধর্মীয় গল্পের সাথে মিলাইয়া বিজ্ঞানের নামে কল্পনাময় বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা দিয়া পোস্ট বানাইলো।

সাধারণ পাবলিক বাদই দিলাম, মাদ্রাসা সহ স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক পোলাপাইনে হাজারে হাজারে শেয়ার দিলো। চোখ বুইজ্জা স্রষ্টার বহুত বৈজ্ঞানিক লীলাখেলাও দেইখা ফেললো৷ প্রমাণ কইরা আবারো দেখাইলো এই জনপদের মানুষ যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই হোক না কেন মনস্তত্ত্বের উন্নতিতে প্রতিষ্ঠান বা তার পাঠ্যক্রম কোন ভূমিকাই রাখতে পারে না!

তো, কি সেই সূর্যগ্রহণ সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক কথা?

সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণের সময় বলে চাদ সুরুজ আর দুনিয়া তথা পৃথিবী একই প্লেনে থাকে। তিনজনে একলগে মধ্যাকর্ষন শক্তিদিয়া জুপিটার স্যাটার্ন আর মংগলের আশেপাশে থিকা এস্ট্রোয়েড টাইন্না আনতে পারে। যা দুনিয়ায় পরলে পুরাই কেয়ামত। হের লেইগা সব ফালাইয়া পানাহ’র লেইগা কান্নাকাটি করা লাগবো। বিজ্ঞানীরা বলে এইসব কইয়া আজ গ্রহণের সময় কান্নাকাটি করছে। অনেকে বলে ঈমানও আইনা ফেলছে এই ঘটনা জানতে পাইরা।

কিন্তু রাস্কেল গুলা জানে না গ্রহণের সময় ব্যতিতও প্রতিবছর পাঁচ দশ বারের উপ্রে এই ত্রয়ী এমন একই প্লেনে বা তলে সরল রৈখিক ভাবে আসে। সেইগুলাও অবস্থান বুঝে গ্রহণের সময় গুলোর চাইতেও কম শক্তিশালি হয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই বেশি হয়। এটা নিত্য ঘটনা। কোন গ্রহণ আলাদা কোন সিগনিফিকেন্স দেয় না – যে গ্রহনের সময়ই ত্রয়ীশক্তি একত্রিত হইয়া হাবিজাবি টাইন্না দুনিয়ার উপ্রে ফেলবো।

সুতরাং অতীতে ইসলামের শেষ নবী (স) এই বৈজ্ঞানিক ঘটনা জানতেন বইলা গ্রহনের সময় কান্নাকাটি করতেন বইলা আজগুবি যোগ সংযোগ কইরা বিজ্ঞান দিয়া ধর্ম মহিমান্বিত করার চেষ্টা করাটা খুব হাস্যকর।

ঠিক যেমন হাস্যকর হচ্ছে প্যারাডক্সিকাল সাজিদ মার্কা বই বা জাকের নায়েকের লেকচার শুইনা বৈজ্ঞানিক ফ্যাক্ট শেখা। কারণ এরা সায়েন্সের নামে সুডোসায়েন্স বলে৷ আর আমাদের সমাজের মানুষজন সেইটাকে সায়েন্স মাইনা বিজ্ঞান দিয়া ঈমান আনে।

Onion by 

Ahmed Sanny

Leave a Reply

Close Menu