মহাবিশ্বর অস্তিত্ত্বের অনুকল্প সমূহ: স্রষ্টা ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক মডেল

An Emission Nebula (IC-1396)

মহাবিশ্ব নিয়ে চিন্তাভাবনা করেতে গেলে প্রথমে আমাদের মনে যে প্রশ্ন গুলো সবার আগে মাথায় ঘোরাঘুরি করে তেমন একটা হল, why there is something rather than nothing? অর্থাৎ মহাবিশ্বে কেন কিছু আছে কোন কিছু না থাকার পরিবর্তে? আর একটু অন্যভাবে ভাবলে বলতে হয়, মহাবিশ্ব কেন অস্তিত্বশীল!   আজব প্রশ্ন। এইটা কি কোন প্রশ্ন হল নাকি? এই বলে অনেকেই নাক সিটকানো শুরু করেতে পারে। তবে একটা উত্তর মোটামুটি সবাই দিবে ‘God did’। কারণ একটাই, আমাদের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী যাবতীয় সব কিছুর একজন স্রষ্টা আছে, যিনি সবকিছুর আবির্ভাবের পূর্ব থেকেই অস্তিত্বশীল। তিনিই সব সৃষ্টি করেছেন। তার জন্যই সব অস্তিত্বশীল। সুফি দর্শনে এই স্রষ্টা সম্বন্ধে একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে, যেখানে স্রষ্টা বলেছেন, ‘আমি গুপ্ত সম্পদ ছিলাম; আমি প্রকাশিত হতে চেয়েছিলাম। সেজন্যে, আমি জগত সৃষ্টি করেছি যাতে প্রকাশিত হতে পারি’। ( স্রষ্টার ইতিবৃত্ত- ক্যারেন আর্মস্ট্রং, অনুবাদ: শওকত হোসেন।   অনেকে একে হাদিস হিসেবে দাবী করে কিন্তু আসলেই হাদিস কিনা সেই বিষয়ে বিতর্ক আছে। তাই একে একটি দর্শন হিসেবেই ধরে নেয়াই ভালো।) আসলেও কি তাই! তাহলে বলতে হয় সমগ্র বিশ্বচরাচরের শুরু যেখানে ‘স্রষ্টা’ অনুকল্পটির সূচনা সেখান থেকেই। অথবা স্রষ্টার অস্তিত্ব সব সময় ধরে ছিল এবং আছেও। যদিও সময়ের শুরুই হয়েছে যে মুহূর্ত থেকে আবির্ভাব হয়েছে সমগ্র বিশ্ব মণ্ডল। আগে তো আর কোন সময় ছিল না। অন্য দিকে আরেকটা প্রচলিত ধারণা হচ্ছে স্রষ্টা-স্বয়ম্ভূ, মানে নিজে নিজেই উদ্ভূত হয়েছে। উনাকে সৃষ্টির জন্য আরেকজন স্রষ্টার প্রয়োজন পড়েনি। নিরপেক্ষ ভাবে আমরা ‘স্রষ্টা’ বা ‘আদি অনন্ত এক সর্বময় সত্ত্বা’কে ‘অনুকল্প’ হিসেবে ধরে নিতে পারি। যার প্রয়োজন জগতের অস্তিত্বশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য।  

আবার দেখা যাক আরও কিছু মহাবিশ্বর অস্তিত্ব সম্পর্কিত অনুকল্প, যেগুলো আমরা পাই বিভিন্ন তত্ত্ব তথ্য পর্যবেক্ষণ আর প্রতিপাদনের মাধ্যমে।

তো কথা শুরুর আগে বুঝতে হবে মহাবিশ্বর প্রকৃতিকে, একে বুঝতে গেলে প্রথমে আমাদের সমগ্র মহাবিশ্বকে কল্পনা করে নিতে হবে কাল্পনিক অনন্ত বিস্তৃতিতে বিস্তৃত একটা চাদর হিসেবে। চাদরের মাঝে কোন খাঁজ আছে নাকি নেই সেই ব্যাপারটি নিয়ে এখনি ভাবতে হবে না। একটু পরে ভাবলেও চলবে। এই চাদর স্থান কালের ফেব্রিক দিয়ে তৈরি। প্রথমত তিনমাত্রার স্থান। (এই তিন মাত্রা সম্পর্কে উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞানের সব স্টুডেন্টকেই কোন না কোন প্রবলেম সলভ করতে হয়) দ্বিতীয়ত সময়, যেটার পরিবর্তনে হয় স্থানের কোন না কোন ঘটনা আবার অন্যভাবে বললে যেকোনো দুটি সম্পর্ক যুক্ত বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যবর্তী পার্থক্য নির্ধারণ করার পেছনে যা দায়ী সেটি হল সময়।(যারা একটু আধটু রিলেটিভিটি পড়ার চেষ্টা করেছেন তারা বিষয়টি ভালোই জানেন)। তো এই স্থানকালের এই মিলেমিশে একাকার হয়ে তৈরি করেছে স্থানকালের তৈরি চাঁদোয়া। (এই মিলমিশের মাঝে রোমান্টিক ভাবে চলে আসছে ভাবলে করার কিছু নাই)। এবার বলা যেতে পারে এই চাঁদোয়াতে বিন্দু বিন্দু আকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গ্যালাক্সি সমূহ। তবে মাধ্যাকর্ষণের জন্য কাছাকাছি গ্যালাক্সি গুলো বিভিন্ন ধরণের গুছ (ক্লাস্টার) গঠন করে ছুটোছুটি করছে। আমরা তারা নক্ষত্র বা গ্রহ বা কোন সৌরজগৎ বিবেচনা না করে সরাসরি গ্যালাক্সি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি। কারণ আমাদের আলোচনার ক্ষেত্র অনেক বিশাল। আর এটা তো সবাই জানি গ্রহ উপগ্রহর মতো ছোটখাটো হাবিজাবি জিনিস নিয়ে সৌরজগৎ বা নক্ষত্রজগৎ, অসংখ্য এমন নক্ষত্র বা নক্ষত্রজগৎ, গ্যাস স্তবক আর আরও বহুবিধ হাবিজাবি নিয়ে হয় গ্যালাক্সি। অর্থাৎ বৃহতর ভাবে পদার্থের সবচাইতে ঘন সন্নিবেশ হিসেবে যে একক ধরে নেয়া যায় সেটি হচ্ছে গ্যালাক্সি।  আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে সেটি হচ্ছে মহাবিশ্বকে যে ভাবেই দেখি না কেন মানে এলোমেলো ভাবে যে কোন একটি পয়েন্ট থেকে যে দিকেই তাকানো হোক না কেন সব দিক একই রকম দেখাবে। যেহেতু আমারা আগেই ধরে নিয়েছি চাঁদোয়ার বিস্তৃতি অসীমের মতো। ( কল্পনার সুবিধার্থে ধরা যেতে পারে একটা ক্ষুদ্র পিঁপড়া খর ভরা কোন রুমে দেয়ালের পাশ গুলো ছাড়া যে স্থানেই থাকুক না কেন চার পাশে একি রকম দেখবে)।   

অনুকল্প বিষয়ে ফিরে যাওয়া যাক। প্রথমে স্থির মহাবিশ্ব। রূপকথার গল্পের মতো বলা যেতে পারে, একদা একসময় মনে করা হতো এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড স্থির। এখানে বলা হচ্ছে মহাবিশ্বর সামগ্রিক অবস্থাকে। স্থান কালের চাঁদোয়াকে। ভেতরে ভেতরে ক্লাস্টার গুলোর মাঝে গ্যালাক্সিদের ছুটো ছুটি থাকলেও ওই স্থানকালের ফেব্রিকের চাঁদোয়া স্থির। যা অনন্ত কাল ধরে ছিল, আছে এবং থাকবে। এটা একটা অনুকল্প। তবে পরবর্তীতে এই অনুকল্পকে বাদ দেয়া হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে দূরতম  গ্যালাক্সি গুলো (প্রাসঙ্গিক ভাবে বলা যায় এক ক্লাস্টার থেকে অন্য ক্লাস্টার) আমাদের অবস্থা থেকে প্রতিনিয়ত দূর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এর অর্থ দুটি, এক মহাবিশ্ব স্থির নয়। দুই স্থান কালের চাঁদোয়া প্রসারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।(হাবলের পর্যবেক্ষণ থেকে)। এই পর্যবেক্ষণ আর রিলেটিভিটির তাত্ত্বিক তত্ত্ব থেকে নতুন আরেকটি অনুকল্পর জন্ম হয়। বিগ ব্যাং মডেল।

এই বিগ ব্যাং মডেল অনুসারে বলতে গেলে বলতে হবে সব কিছুর একটি শুরু ছিল। সময়ের স্থানের, সবকিছুর। যেহেতু সব কিছু প্রসারিত হচ্ছে তাই আগে নিশ্চয়ই সব একসাথে ছিল। ছোট্ট এই যুক্তির উপরে ভিত্তি করে এই তত্ত্ব গড়ে উঠে, প্রতিষ্ঠা পায় সিএমবি রেডিয়েশন পর্যবেক্ষণ করে। CMB হচ্ছে ‘কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড’ রেডিয়েশন। জিনিসটা নিয়ে অনেক কথা বলা যায়, তবে অল্প কথায় বুঝার জন্য একটু অন্য ভাবে শুরু করা যাক। আদিতে সব কিছু একসাথে ছিল। স্পেস টাইম বলেও কিছু ছিল না। ছিল না পদার্থ বা বস্তু জগত বলেও কোন কিছু। সব ছিল একত্রে ঘনীভূত। পদার্থ আর প্রকৃতির যেসব নিয়ম কানুন আমারা জানি সে গুলো দিয়ে ওই অবস্থার ব্যাখ্যা স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবে দেয়া যায় না। সে যা হোক, যে জায়গা থেকে দেয়া যায় সেখানে যাওয়া যাক। সেটা হচ্ছে ওই ‘পয়েন্ট অফ সিঙ্গুলারিটি’ অবস্থার বিস্ফোরণের মুহূর্ত থেকে। এই বিস্ফোরণের গালভরা নামই আজকের ‘মহা বিস্ফোরণ’ বা ‘বিগ ব্যাং’। তো এই মহা বিস্ফোরণের ঠিক ঠিক পরে সমগ্র স্থান জগত ছিল অতি উত্তপ্ত। বিস্ফোরণের পরের সৃষ্টি মৌলিক কণাদের ধূমজাল আর তাপীয় বিকিরণে ভরা এক জগত। ধীরে ধীরে যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঠাণ্ডা হতে থাকলো তখন প্রোটন, ইলেকট্রনের মতো মৌলিক কণা গুলো মিলে তৈরি করা শুরু করলো নিউট্রাল অ্যাটম। এই নিরপেক্ষ অ্যাটমের সৃষ্টি হওয়ার দরুন মৌলিক কণা আর তাপীয় বিকিরণের অনচ্ছ (opaque) যে জগত তৈরি হয়েছিল বিগ ব্যাংয়ের পরে তার মধ্যে এক ধরণের পরিবর্তন চলে আসলো। কণা গুলো নিউট্রাল   পরমাণু তৈরি করায় বিকিরণ হয়ে গেলো পৃথক। ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র। এটাই হচ্ছে কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন। আমরা যেহেতু সিএমবি রেডিয়েশন পাচ্ছি তার মানে মহা বিস্ফোরণ হয়েছিল, না হলে তো আর এমনটা পেতাম না। সহজ যুক্তি।

তারপরও কথা রয়ে যায়! (কোন একটা গানের লাইন যেমন এরকম), যেমন সেই একত্রীভূত অবস্থায় বিস্ফোরণ হল কেন? আর আমরা যে মহাবিশ্ব দেখছি তার সিএমবি রেডিয়েশনের সুষম বণ্টন(homogeneous) দেখা যায়, কিন্তু কেন? অন্তত আমাদের পর্যবেক্ষণে তো একেক দিকে একেক রকমের দেখা পাবার কথা ছিল। কারণ যখন সিএমবি রেডিয়েশন ফর্ম করছিল তখন মহাবিশ্বর আকৃতি যথেষ্ট পরিমাণে বড় হয়ে গিয়েছিল যে বিভিন্ন অঞ্চল কোন ধরনের আন্তঃযোগাযোগের মাধ্যমে তাপমাত্রা ইউনিফর্ম রাখতে পারে তেমনটা সম্ভব ছিল না।  

এর মানে বিষয়টা বেচারা বিগ ব্যাং তত্ত্ব খাপছাড়াই থেকে যায়। যার জন্য অপেক্ষাকৃত নতুন আরেকটি প্রস্তাবনা আছে যার নাম ‘ইনফ্লেশন মডেল’। ) অর্থাৎ বিগ ব্যাং মডেলই শেষ কথা নয় ‘ইনফ্লেশন মডেল’ নামের আরেকটা তত্ত্বের সাপেক্ষে মহাবিস্ফোরণ ব্যাখ্যা করা হয়। 

এই তত্ত্বের মতবাদ অনুযায়ী মহাবিস্ফোরণের পরপরই মহাবিশ্বের যে সম্প্রসারণ হয়েছিল তা ছিল এক্সপটেনশিয়াল আকারে। (এক্সপটেনশিয়াল আকার হচ্ছে একটি গাণিতিক ফাংশন, y=ex  হচ্ছে এর প্রচলিত উদাহরণ। x কে সময় আর y কে সম্প্রসারণ হিসেবে ধরে নিয়ে কল্পনা করা যেতে পারে )। যার দরুন সমগ্র বিষয়টাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, সিএমবি রেডিয়েশন তৈরির প্রথম যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল সেটি ছিল বেশ কাছাকাছি ধাঁচের, অতঃপর স্থানিক Inflation বা স্ফীতির মাধ্যমে হঠাৎ বেড়ে সম্প্রসারিত হতে থাকে। সেই কাছাকাছি অবস্থা থেকে যেহেতু এক্সপটেনশিয়াল আকারে সম্প্রসারণ হয়েছিল তাই বলাই যায়, সে অবস্থায় আন্তঃযোগাযোগের মাধ্যমে তাপমাত্রা ইউনিফর্ম রাখার যথেষ্ট সুযোগ ছিল।

‘কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন’ নামের আরেকটি প্রস্তাবনা আছে যা দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়, ‘কিছু নাই’ থেকে  কীভাবে দুনিয়াদারী আর এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড উদ্ভব হয় সেটাকে।

ঝামেলা মুক্ত ভাবে এ সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হবে কোয়ান্টাম বা অনেক ক্ষুদ্র স্কেলে যখন কিছুই থাকে না তখন সেই অবস্থাটা হয় খুবই অস্থায়ী। বিভিন্ন ভাবে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মাধ্যমে শক্তি আর প্রতি শক্তির উদ্ভব ঘটতে থাকে। ব্যাপারটা শক্তির নিত্যতার নীতিকে (শক্তির উদ্ভব বা বিনাশ নেই) কিন্তু অস্বীকার করে না! কারণ মূল শক্তি আর প্রতি শক্তি যদি আবার একত্রে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বা নিছক মিলে যায় তাহলে সব শূন্যে বা ‘কিছু নাই’ অবস্থায়ই আবার চলে আসবে। তো কোন ভাবে শূন্য থেকে যদি শক্তি (প্রতি শক্তি নয়*) ইনফ্লেশনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে পরবর্তীতে পদার্থ আর বিকিরণের উদ্ভব ঘটায়(আইনস্টাইনের ভর শক্তির রুপান্তরন দিয়ে কল্পনা করা যেতে পারে, যেখানে দেখানো হয়েছে ভর আর শক্তি দুটি আসলে একই জিনিস, চাইলেই একটাকে অন্যটায় রূপান্তর করা সম্ভব)  তাহলে কিন্তু এই উপায়ে মহাবিশ্বও তৈরি হতে পারে।

তাই এরকম হলে আমাদের মহাবিশ্বকে বলা যেতেই পারে ‘self-creating universe’। 

কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন নিয়ে খানিকটা মজা করা যাক। ধরে নেয়া যাক শূন্যতায় ফ্লাকচুয়েশন মাধ্যমে  ‘বুদবুদ’ বা ‘bubble’ উৎপন্ন হচ্ছে। অতঃপর স্ফীত হয়ে যাচ্ছে ফেটে নয়তো চুপসে। আমাদের মহাবিশ্বটা কিন্তু ওই রকম একটা বাবল হিসেবে ধরে নেয়া যায়। আর অন্যান্য বাবল গুলো হচ্ছে অদেখা অজানা দুনিয়া। এটি আরেকটি নামে বহুল পরিচিত তা হল- মাল্টি ইউনিভার্স।   

আবার, ওই যে প্রতি শক্তি ছিল যাদের বদলে মূল শক্তির দুনিয়াই আমরা ধরে নিয়ে ছিলাম সেটা দিয়েও কিন্তু দুনিয়া গড়া সম্ভব, গাণিতিক ভাবে। এই জগৎ আর ওই জগতের যদি কোন মিশেল ঘটে তাহলে হুট করে ‘কিছু না’ হয়ে যাবে।

আজব আজব লাগলেও এগুলো খুবই বাস্তব সম্মত। মহাবিশ্ব সম্পর্কে এই সব ধারণার সব গুলই কিন্তু দাঁড়িয়ে আছে গাণিতিক ভিত্তির উপরে।  

এই সব গুলো অনুকল্পই কিন্তু বলছে জগতের শুরু শূন্য থেকে। আর সেখানে কিছু না থাকার পরিবর্তে কিছু আছে, এই কিছুটা হচ্ছে আমাদের এই মহাবিশ্ব। আবার আনা যেতে পারে ‘স্রষ্টা’ অনুকল্পটি। আস্তিকতা বা নাস্তিকতার দ্বন্দ্বে না গিয়ে যদি লক্ষ্য করা হয় তাহলে বলতেই হবে এটা সম্পূর্ণ রূপে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের বিশ্বাসের উপরে। বিশ্বাস করলে এর প্রয়োজন পরবে, অন্যদিকে বিশ্বাস না করলে কোন প্রয়োজন নেই। এটাও বলতে হবে এই অনুকল্পের পেছনে অন্যগুলোর মতো যুক্তি আর তাত্ত্বিক অথবা পর্যবেক্ষণ লব্ধ ফলাফল যতটা না সক্রিয় তার চাইতে অতিমাত্রায় যা কাজ করে সেটি হচ্ছে বিশ্বাস, শত সহস্র বছর ধরে প্রচলিত আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে থাকা বিশ্বাস।  

APPENDICES

ইনফ্লেশনের মেকানিজম’টা কেমন সেটা এখনো ঠিক পরিষ্কার না, এ অনুসারে বিস্ফোরণ টিস্ফোরণ সব আসলে কোন গুরুত্বপূর্ণ কিছু না, এই ইনফ্লেশন এক ধরণের মহাবিশ্বের দশা পরিবর্তনের (Phase Changing) মতো ব্যাপার। হালকা গনিত ব্যবহার করে লিখলে লিখা যায়, 

Inflaton  ⇒ matter + radiation + cosmic inflation

তুলনার জন্য পানির দশা পরিবর্তন বিবেচনা করা যেতে পারে,

Liquid water ⇒ ice + heat released + increase in volume

Leave a Reply

Close Menu