অতীতে মুসলমান সমাজ জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা করতো – একটি ভ্রান্তিবিলাস

 

(This floating on online (viral) photo has been collected without proper citation. Personally, I haven’t get chance to check each and every scholar’s profile, so mistake can appear, however, many of the mentioned statements are correct. – Ahmed Sanny) 

সাধারন মুসলিম সমাজ কখনো জ্ঞান চর্চা প্রমোট করেনি। যে সময়টাকে আমরা ইসলামের গোল্ডেন এজ বলে থাকি সেই সময়েও যারা বিজ্ঞান চর্চা করতো তারা আক্ষরিক অর্থেই থাকতো দৌড়ের উপরে। প্রায়ই ইসলামিক গোড়ামির লালন পালনকারী প্রিস্ট বা সম ভাবাপন্নদের কথায় বিরাগভাজন হয়ে বিজ্ঞান এমনকি সাহিত্য চর্চাকারী তথা যারা এই ধরণের সেক্টর নিয়ে কাজ করে তাদের আক্রমণ করে বসতো রাজ রাজাদের পটিয়ে অথবা সেই রাজ রাজারাও ছিলো একই রকম প্রিস্ট মনোভবাপন্ন। উদাহরণ সরূপ আমরা দেখি সকল প্রগতিশীল মুসলিম জ্ঞানী গুণীরা জীবন বাচাতে এই রাজার বা সুলতানের দরবার থেকে ওই সুলতানের দরগায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আর ইন্টারেস্টিং ভাবে আমরা এই ইতিয়াস টুকু ওভার লুক করে যাই। সিমপ্লি বলি উমুক সুলতানের বিরাগ ভাজনের জন্য উমুক জিনিসের আবিষ্কারকর্তা উমুক অঞ্চল ত্যাগ করে অন্যত্র অন্য কারো আশ্রয় নিয়েছেন। চাইলে এই সংক্রান্ত অসংখ্য দৃষ্টান্ত অতীতে দেখা যায়। উদাহরণ স্বরূপ ইবনে সিনা (অন্য কেউও হতে পারে তবে মোটামোটি ভাবে ঘটনা এক) যখন চিকিৎসা করতো এবং নানাবিধ পরীক্ষানিরীক্ষা করতো তখন সেই সময়ের মুসলিম সমাজ সেই পরীক্ষানিরীক্ষা ও চিকিৎসা আওংক্রান্ত সব কিছুকে বলতো  শয়তানের উপাশনা করা এবং খোদার বিরুদ্ধে দৃষ্টতা দেখানো। ফলশ্রুতিতে তাকেও হতে হয়েছে বিতারিত। বারবার অনেক যায়গায় থেকেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যারা এইসব যে গোড়া মুসলিম সমাজ করেছে তারাই আবার পরবর্তীতে  মাতোয়ারা হয়েছে   মুসলমান বিজ্ঞানী উমুক করেছে তুমুক করেছে বলে। কিন্তু তাদের স্ট্রেইট মন্তব্য ছিলো ইবনে সিনা মুসলমান না। জিনিসটা বিশ্বাস নির্ভর জাতির দ্বিমুখি আচরণের প্রকৃষ্ট উদাহরন।

মুসলমান সমাজের আরেকটি ফাঁকা গর্বের মন্তব্য হচ্ছে –   স্পেনে মুসললিম সভ্যতা টিকে থাকলে দুইশ বছর আগে চাঁদে মানুষ যেতো। তবে সেটা হতেই পারে। কারন সেই পতনের পরে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিলো প্রায় দুইশ বছরের জ্ঞান চর্চার প্রবাহে পরবর্তীতে ইউরোপে রেনেসার শুরুর আগ পর্যযন্ত। ওইদিকে এটাও কিন্তু বলা যায় গ্রিক সভ্যতার পতন না হলে জ্ঞানের প্রায়োগিক সভ্যতার ইতিয়াস আরো কমসে কম পাঁচশ বছর এগিয়ে থাকতো। কারণ মুসলমান সমাজের আবির্ভাবের পূর্বে আরো তিনশ বছর অন্ধকার ছিলো ওই জ্ঞান চর্চার স্রো প্রবাহে। সুতরাং আমরা টিকে থাকলে এই করে ফেলতাম ওই করে ফেলতাম এইসব আসলে গুরুত্বপূর্ণ না। কারণ সমগ্র্য মানব ইতিহাসটাই উত্তান পতনের। কখনো কোন সভ্যতা সমসাময়িক সময়ে অন্য সভ্যতাদের থেকে এগিয়েছে কেউ পরে পিছিয়েছে।

অতীতে আমরা কিছিলাম বা কি করতে পারতাম বলে শোয়িং অফ আর অহং কিংবা তৃপ্তির ঢেকুর তোলার চাইতে  গুরুত্বপূর্ন হলো বর্তমানেও মুসলিম সমাজ অতীতের ভুল গুলো পুনরাবৃত্তি অব্যহতি রেখেছ   নাকি ওভার কাম করেছে সেটা। এখানে উল্লেখ্য মুসলিম সমাজ ‘সাধারণ’ অর্থে অতীতের ভুলো গুলো আরো বেশি করে করছে। আর সেটা এতোটাই প্রকোট যে বিশিষ্টজনেরা আগে সমাজের এই যায়গা থেকে ওই যায়গায় পালিয়ে গেলেও কেও কেও তাকে কাজ করার সুযোগ দিতো এখন সেটাও দেয় না। চোরাগোপ্তা হামলায় দরকারে মেরে টেরে ফেলে। আমাদের কবি নজরুল জীবিত কালে নাস্তেক কাফের হিন্দু খ্রিষ্টান দালাল উপাধি কম পাননি তিনি। যদিও এখন সমাজ তাকে বিবেচনা করে মুসলিম সাহিত্যিক হিসেবে। তবে বর্তমান সমাজের হলে অনেক আগেই কতল হয়ে যেতো। বিষয়টা হচ্ছে আমাদের গোঁড়ামি চর্চার অন্য কিছু চর্চা হয়ে উঠছে না। এটা সামগ্রিক চিত্র। অন্য কোন অন্তরায় নেই। আর আমরা এই ছিলাম সেই ছিলাম বলে গর্ব করারো কিছু নেই। সব কিছুই সামগ্রিক ঘটনা প্রবাহের উত্থান পতন মাত্র !

by

Ahmed Sanny

Leave a Reply

Close Menu