প্রতিস্থাপন

 

ইমা আজাদের জন্য অপেক্ষা করছে। রাত বারোটা সাতচল্লিশ। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। যদিও এটা তেমন কোন রাত না।

ফোনটা হাতে নিলো ইমা। টাচ স্ক্রিনের লক খুলে অনলাইন ম্যাসেজিং এপ্লিকেশনটায় আজাদকে ম্যাসেজে লিখলো, ‘কই! আসছো না যে।’

বারোটা উনপঞ্চাশ। দুই মিনিট পর উত্তর এলো, ‘আসছি তো। বাইপাস রোডে জ্যাম।’

‘এতো রাতেও জ্যাম।’

‘ঢাকার আবার রাত দিন কি!’

‘এই সময় তো জ্যাম হয় না।’

‘আজ হয়েছে তো। সম্ভবত কোন এক্সিডেন্ট হয়েছে। আর তো কোন কারণ নেই।’

‘সাবধানে এসো।’

‘আচ্ছা।’
ফোন হাতে নিয়ে ইমা বারান্দায় বের হয়ে এলো। দূরে রাস্তা দেখা যাচ্ছে। আলোকিত সোডিয়াম আলোয়। হলুদাভ। কেমন যেন প্রাণচাঞ্চল্য আছে রাস্তার। গাড়ি চলাচলের জন্য হয়তো।

ছয় তলায় থাকে ও আর আজাদ। দুইজনের সংসার। বিয়ে হয়েছে এগারো মাস। বিয়ের আগের পরিচয় আট মাসের। অফিসিয়াল কাজে পরিচয়। অনলাইনে যোগাযোগ। কথা বলতে বলতে একজনের প্রতি অন্যজনের আবেগ।উচ্ছ্বাস। প্রেম। তারপর বিয়ে। সহজ স্বাভাবিক গল্পর মতো। ভাবতে ইমার ভালো লাগে।  প্রশান্তি আর এক ধরণের ঘোর লাগা তৈরি হয়।
নিচ থেকে রিক্সার ঘন ঘন রিং বেজে ওঠে। কেও ধমকে উঠে। ‘ওই! দেখে চালাতে পারিস না!’

‘সরি মামা। তাড়াহুড়োয় ভুল হয়া গেছে।’

‘হ। হ। ঠিক আছে। যা ভাগ।’

রিকশাওয়ালা টেনে চলে যায় তাড়াতাড়ি।  ইমা ছয় তলার উপরের বারান্দা থেকে তাকিয়ে দেখে  রিকশাওয়ালার সাথে কথা বলা মানুষটাকে। পরিচিত কণ্ঠ। মানুষটাও চেনা। সাজিত। হ্যাঁ, সাজিদ। ওই তো আলোয় দেখা যাচ্ছে। একটা গাড়ির হেডলাইটের আলো এসে পরেছে সাজিদের মুখে। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তবে আজ সাজিদকে এভাবে হুট করে দূর থেকে দেখে কোন ভাবান্তর হলো না ইমার। বছর তিনেক আগেও সাজিদকে দেখলে ইমার শরীরে একধরণের শিহরণ বয়ে যেতো। আজ কিছু নেই। তখন ইমা আর সাজিদ চুটিয়ে প্রেম করতো। কতো আবেগ।  স্বপ্ন। ভালোলাগা। আলিঙ্গন। স্পর্শ। চুম্বন। সব কিছু ছিলো প্রথম। তারপরেও সম্পর্কটা টিকলো না। টিকলে আজাদের জন্য নয়। অন্য কোথাও বোধহয় সাজিদের জন্য ইমা অপেক্ষা করতো। রিকশাওয়ালাকে ধমক দিয়ে বাড়ি ফিরে ইমাকে বলতো একটুর জন্য রিক্সা সাজিদের গায়ের উপর উঠিয়ে দেয়নি। কষে ধমক দিয়েছে। রিকশাওয়ালা পড়িমরি করে ছুটে পালিয়েছে। এমন ভাবে বলতো যেন কত বড় কিছু ঘটেছে। সাজিদের বলার ধরণটাই এরকম। মনে হয় না জানি কি হয়েছে।

বাসার কলিং বেল বেজে উঠলো।

ট্রিং, ট্রিং। থেমে আবার বাজলো দুবার, ট্রিং, ট্রিং। আজাদ এসেছে। ও এভাবে বেল বজায়। পরপর দুবার টিপে একটু বিরতি। তারপর আবার দুবার।

ইমার মনে হলো,  সাজিদ বাসায় এলেও তো এভাবেই বেল বাজাতো!

কি ছাইপাঁশ ভাবছি, নিজের মনে নিজেকে বলে দরজা খুললো। সামনে আজাদ। ফ্লাটে ঢুকেই দরজা আটকে আজাদ আলতো করে ইমাকে আলিঙ্গনে কোলে তুলে নিলো আজাদ। ইমার ঠোটে ঠোট স্পর্শ করার পূর্বে শুধু বলল, আই মিসড ইউ এ লট, ইমা।

আচ্ছা সাজিদও তো এভাবে কোলে তুলে মিস ইউ বলে ঠোটে ঠোট রাখতো। ইমা আবার মনে মনে নিজেকে বলল, শুধু শুধু কি ছাইপাঁশ ভাবছি। অবশ্য ইমার আর কিছু ভাবার সুযোগ ছিলো না ততক্ষণে। আজাদের আলিঙ্গনের চাপ বাড়ছে। দুজনের ঠোট একটা অন্যটির সাথে মিশে যাচ্ছে। নিশ্বাসের শব্দ জোরালো হচ্ছে। এই মুহূর্তের কাছে পৃথিবীর অন্য সকল ভাবনা অর্থহীন।

Sort story by 

Ahmed Sanny

Leave a Reply

Close Menu