ভারতের এন্টি-মুসলিম ল’তে সেকুলার চিন্তাধারার প্রতিবাদ ও ভারত-বাংলাদেশের চিন্তাধারা

সাম্প্রতিক (ডিসেম্বর ২০১৯) ভারতে  এন্টি-মুসলিম ল’ এর বিরুদ্ধে সবচাইতে বেশি প্রতিবাদ যারা করছে তারা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট। যাদের বেশিরভাগই বলা যায় সেকুলার মনোভাবের স্টুডেন্ট। নিশ্চিত করে বলা যায় এই স্টুডেন্টদের অধিকাংশর ফ্যামিলি ব্যকগ্রাউন্ড হিন্দু ধর্মীয়।

কিন্তু কেন এই প্রতিবাদ বা কেন বিক্ষোভ অন্য ধর্মলাম্বীদের জন্য? অন্য ধর্মকে সেকেন্ডক্লাস সিটিজেন করে নিতে কেন বাধা দিচ্ছে নিজ ধর্মর বাহিরে গিয়ে?

উত্তর সোজা, সম-অধিকার বা ইকুয়ালিটি।

তার বাহিরেও, ভারতের সাম্প্রদায়ীক সরকারি সকল এন্টি-মুসলিম সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুসলিমদের চাইতেও মমতা ব্যানার্জির মতো যারা প্রতিবাদ করে যাচ্ছে রাজপথ কাপাচ্ছে তারা সবাই সেকুলার চিন্তাধারার।

আর এইদিকে বাংলাদেশের ধার্মিক পাবলিকের পোস্ট শেয়ার কথাবার্তা দেখলে মনে হয় সেকুলারিজমের চাইতে বড় কোন সমস্যা আর দুনিয়াতে নাই। ঠিক যেমনটা ভারতের উগ্ররাও মনে করে মূল সমস্যা সেকুলারিজমে তারপরের সমস্যা ইসলামে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উগ্র মুসলমানেরা মনে করে সেকুলারিজম প্রথম সমস্যা তারপরের সমস্যা হিন্দুরা।

প্রকৃত পক্ষে ভারত আর বাংলাদেশের মানুষজনের মধ্যকার উগ্রতার পার্থক্য নাই। একদল হিন্দু ধর্ম দিয়ে, অন্যদল ইসলাম ধর্ম দিয়ে।

একাডেমিক শিক্ষায় দীক্ষিত কিছু কুপমুন্ডুক আর একতরফা ব্লাইন্ড চিন্তা ধারার মানুষ এসবের পেছনে যুক্তিহীন আবেগ দিয়ে গদ্য রচনা করে অস্থিতিশীলকে আরো অনমনীয় করে যাচ্ছে।

সবচাইতে বিরক্তিকর ব্যপার হচ্ছে সেকুলার বা সেমি সেকুলার দেশে বসবাস করা কিছু ভারতীয় আছে যারা ওইসব দেশে বসে অন্তরের অন্তস্থল থেকে চায় ভারত একটি ধর্মভিত্তিক হিন্দু রাস্ট্র হোক। তেমন গাদা গাদা বাংলাদেশি আছে যারা তেমনই সেমি সেকুলার বা সেকুলার রাস্ট্রে বসে সেকুলার চিন্তাধারার ইকুয়ালিটির সম-অধিকারের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে অবিরত বাস্তবতা বিবর্জিত আবেগে বাংলাদেশের কন্সটিটিউশন কেন ধর্ম ভিত্তিক উপায়ে ইসলামিকরন করতে হবে সেই ফিরিস্তি বলে যান।

যা হোক। প্রশ্ন একটাই – আমরা এতো ধর্মীয় উন্মাদ কেন?

উত্তর জানা নেই। 

প্রতিক্রিয়া 

আহমেদ সানি

Leave a Reply

Close Menu