ধূম্র শব্দেরা

ক.

রাত্রি শেষে নিয়াডার্থাল পরবর্তী বিশ্বাসের স্বরের প্রকম্পিত আহব্বানের সময় আজ সেই পথে নামা। যে পথ আমি পারি দিয়েছি নিজের মত করে। বারবার। এবং আবার।

খ.

নির্ঘুম চোখ। আমার চিরায়ত বেশ। ঢোলা পোষাক। একটি ব্যাগ।

গ.

নক্ষত্র গুলো আকাশের নীল আব্রুর পেছনে অদৃশ্য হতে থাকে। তাকিয়ে দেখি। নক্ষত্র গুলো তাদের পরিচয় উন্মুক্ত করার পূর্বে আড়ালে চলে যায়। পথ তবুও অন্ধকার। কোন চৈনিক নারী উন্মুক্তবেশি পাশ কাটিয়ে যায়। প্রাতরাশ। তারপর একটি পুরুষ। তারপর আবারো নারী। আবারো পুরুষ। শ্বেতাঙ্গ। ককেশীয়। কিছু ব দ্বীপ সংলগ্ন মানুষ। আর এক ঝাক পাখি। তাদের মাঝে আমি একটি পাখি চিনতে পারি। সেটা দোয়েল।

ঘ.

কিছুদূর একটি বালক স্কুলে যাওয়ার পথে রাস্তায় বসে স্বপ্ন রাজ্যে প্রবেশ করে। আমি তাকে কাছ থেকে দেখি। দূর থেকে দেখি। পাশ কাটিয়ে চলে যাই। সে ঘুমুতে থাকে আমার এক টুকরো অতীত হয়ে। আমি তখন নিজেকে দেখি। 

ঙ.

পূবের অগ্নুৎপাতের সময় গাছ গুলোর ডালে একঝাক কাঠবিড়ালি ছুটতে থাকে।

(April, 2016)

চ.

তৃতীয় যাত্রার প্রাক্কালে আমি আজ নির্বাসনে।
না। তুমি বা তোমরা আমার জন্য নয়।
আমায় আর দেখতে পারবে না বাস্তবতায় তোমাদের চক্ষু সম্মুখে।
জ্বলন্ত তপ্ত চোখে তোমাদের আমার অপেক্ষায় কেটে যাবে দিন।
দিনের পরে দিন।
রাত্রি।
একটা সময় ক্ষয়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে।
শুধু থাকবে অপেক্ষা। তোমাদের প্রতীক্ষাকালীন দীর্ঘশ্বাস।
সিগারেটের ধোয়ার মতো রিং তৈরি করে ভেসে বেড়াবে তোমাদের কংকাল ঘিরে। আমি তখনও আসবো না।
তোমাদের নশ্বরতার যুদ্ধর মাঝে আমি হয়ে উঠবো অবিনশ্বর।
ক্ষিপ্ত।
হিংস্র।
অমানবিক।
ক্রুদ্ধ।
দানব।
তোমাদের কংকালের সামনে আমি দাঁড়িয়ে দেখবো সমুদ্র দিগন্তে অস্তমিত রক্তাভ সূর্য।

(July, 2015)

Ahmed Sanny

Arbitrary words

Leave a Reply

Close Menu