বিদেশে বসবাসরত বাঙ্গালিদের আইসোলেটেড ধর্মান্ধ মনস্তত্ব

বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়ে কুয়ালামাপুরে কাজ অকাজ নানা কারণে নানা অভিজ্ঞতা হয়। এক অর্থে সেইসব ভয়াবহ। ওরা নিজেদের এক রকম আইসোলেটেড করে রাখে বাইরের দুনিয়া থেকে, যদিও সে বাইরেই থাকে। বাংলাদেশ থেকে যে মানসিকতা নিয়ে আসে সেটা বাহিরে না পেয়ে বা একধরনের সাফোকেশনে ভুগে। ওই বিশ্বাস বা দৃষ্টিভঙ্গি আরো আকরে ধরে। আর সেই সব উগরে দেয় অনলাইনে। তাই তাদের আমরা গড়পড়তায় দেখি ধার্মিক হতে, হতে দেখি যুক্তিবিহীন রাজনৈতিক গালাগাল করতে।

 


ব্যপারটা ঠিক প্রবাসী কর্মীদের মাঝেই লক্ষনীয় ভাবে প্রযোজ্য তা নয়। অনেক একাডেমিক্যালি এডভান্সড মানুষের মাঝেও একই ব্যপার দেখা যায়। এই মুহূর্তে যেমন মালায়শিয়ায় বসবাস রত একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত নিচু চিন্তার আইসোলেটেড কিছু বাংলাদেশিদের কর্মমুখি মালায়শিয়ান মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরে কাজকরা নিয়ে করা কটাক্ষ কমেন্ট “মালায় মেয়েরা পাছাড় কাপড় মাথায় দেয়” – এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এমন মন্তব্য করার প্রধান কারণ নিজেদের নোংরা আর মেয়েরা যে মানুষ এবং আলাদা কোন জন্তু নয় এই চিন্তা থেকে বাহির হতে না পারা। 

 


তরুন তরুণী বা কিশোর কিশোরীদের এই ধরণের মাইন্ডসেট নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু কাজ হয়েছে ইউকেতে বেশ গুরুত্ব দিয়ে। দেখা গেছে মাইগ্রেটেড ফ্যামিলি গুলো এক ধরণের আইসোলেশনে চলে যায় বাহিরের কালচারে এডাপ্ট করতে না পেরে। আমরা সেই ব্যপারে অজ্ঞ। কারণ আমাদের অতো সাইকোলজি বুঝার সময় কই! ফলশ্রুতিতে বড় স্কেলে দেখা যায় বাংলাদেশি বা অন্যান্য বা মূলত ইসলামিক ঘরনার ছেলে মেয়ে ধর্মীয় জংগী গ্রুপ গুলোতে ইজিলি আসক্ত হয়ে পড়ছে। যার মূল কারণ নিজেকে এডাপ্ট করতে না পারা এবং প্রতিবেশীর তাদের স্বাভাবিক আচরণের প্রতি পরিবার বা ব্যাক ইন বাংলাদেশ থেকে বহন করে আনা ঘৃণা পোষণ করা।

 


শ্রমিক বা অনেক বিদেশে পড়তে যাওয়া স্টুডেন্ট বা কাজের জন্য শিফট হওয়া ফ্যামিলিও এর বাইরে নয়। যা হোক মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ করা একাডেমিসিয়ানরা ভালো বিশ্লেষণ করতে পারবে৷ তবে ব্যক্তি অভিমত হচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থান কালেই এদের চিন্তাভাবনা আন্তর্জাতিক হয়ে না ওঠা। যার কারণে দেশের বাহিরে গিয়ে অনলাইনে আইসোলেটেড আচরণ করা তাদের দিনকে দিন প্রকট হচ্ছে!

Ahmed Sanny

A Quick Opinion

Leave a Reply

Close Menu