বাংলাদেশি মুসলমানদের পূজনীয় যুক্তির বই

Before starting

Note to the reader

দুই এক যায়গায় প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বইটি নিয়ে কিছু কমেন্ট করেছিলাম। মনে হলো কপি করে পোস্ট করে রাখি। একই কথা বারবার বলতে ভালো লাগে না। কেউ কিছু বললে এইটা শেয়ার দিয়া দেয়া যাবে। Raw আকারে রইলো। বানান ফানান চেক করার সময় নাই।

বইটার বেশির ভাগ অংশ যেখান থেকে আংশিক কপি করা সেই বইয়ের নামও দিয়ে দিয়েছি। সো স্পেসিফাই করে বলার টাইম নাই। জেনারালাইজড মন্তব্য করাই এনাফ।

 

 

বাংলাদেশি মুসলমানদের কাছে পরম যুক্তির বই বিজ্ঞানের বই হচ্ছে প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ। কারো সাথে কথা বলতে গেলে এই বইয়ের নাম করে দুনিয়ার সব জেনে ফেলেছে বুঝে ফেলেছে একটা ভাব নিয়ে সব জান্তা সাজা এখনকার এই মুসলমানদের একমাত্র পুস্তকের নাম প্যাড়াডক্সিক্যাল সাজিদ।

বইটা একটা উপন্যাসের। যেখানে ক্যারেক্টার গুলো নানান যুক্তি উপস্থাপন করে দেখানোর চেষ্টা করে ধর্ম ঠিক।

যদিও বিজ্ঞান অকেজো ও আস্থাশীল নয় বিশ্বাস নিয়ে – ‘কোনো কোনো বৈজ্ঞানিক থিওরি দুই সেকেন্ড ও টেকে না’ কিংবা  ‘বিজ্ঞানের নিজের ওপর নিজের বিশ্বাস নেই’, টাইপের  কথা দিয়ে শুরু করে  বিজ্ঞানের যুক্তি  দিয়েই ধর্মের সত্যতা প্রমাণের চেষ্টা করতে করতে পেরেশানি করা হয়েছে। 

মজার ব্যপার হচ্ছে যুক্তি গুলো হাস্যকর। আর ছেলে ভুলানো। একটা একটা করে ভুল দেখানো যেতে পারে কিন্তু সেই সময় নেই। তবে বইটার রসদ সব চাইতেবে বেশি কোথা থেকে নেয়া হয়েছে সেটা বলা যেতে পারে। পুরো বইটার প্রধান যুক্তির রসদ গুলো নেয়া হয়েছে অভিজিৎ রায় ও রায়হান আবীরের ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ বইটা থেকে। অবিশ্বাসের দর্শনে যে সব যুক্তি খণ্ডানো হয়েছে সেই যুক্তি গুলকেই গল্পের ছলে লাগসই যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। খণ্ডন করা অংশটুকু কর্তন করা হয়েছে সাথে। এটা মাত্র একটা সোর্স এর কথা বললাম। আরও সোর্স আছে যেগুলো পাওয়া যাবে ‘মুক্তমনা’ ওয়েবসাইটে।

সমস্যা হচ্ছে এই বইয়ের লেখকেরা বা লেখক কিংবা পাঠক খণ্ডিত যুক্তি গুলো এড়িয়ে যায় প্রতিবার। আর মনে করে – ইসলাম বিদ্বেষীরা কেবল প্যারাডক্সিকাল সাজিদ নিয়ে চুলকানি প্রকাশ করে, নইলে কেও এই ধরনের বইয়ের সমালোচনা করতে পারে না। কেন সমালোচনা করতে পারে না তার কিছু কারণ দেয়ার চেষ্টা করে তারা।

যেমন,

এক। প্যারাডক্সিকাল সাজিদ বিজ্ঞানের বই না। আবার এইটার সব যুক্তিরে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়াও যায় না।

দুই। প্যারাডক্সিকালসাজিদ এমনই একটা বই যেটা মানুষের ইমানের ব্যাপায়ারে সন্দেহ জাগানোর বিপরিতে বরং পোক্ত করে। কারণ সাজিদের সব যুক্তিরে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

তিন। ইমানের বিষয়টা যেহেতু সাইন্সকে দিয়ে প্রতিষ্ঠা হয় না। ফলে ইমান বিষয়ক সব দিক সাইন্স দ্বারা সিদ্ধ হইতে হবে এমন আলাপও অবান্তর।

মন্তব্য গুলোতে যে অসংগতি গুলো আছে সেটা হল,

এক। বইটা বিজ্ঞানের না কিন্তু বিজ্ঞানকে উপস্থাপন করা হয়েছে সুডোসায়েন্স আকারে। যা শুনতে সায়েন্সের মতো হলেও আসলে সায়েন্স না। সুডোসায়েন্স মাত্রই সায়েন্স নিয়ে যারা কাজ করে তাদের কাছে হাস্যকর। তাদের কাছে সমালোচনা না পাবার কোণ কারণ নাই। মূলত যারা ইসলাম বিশ্বাসী নয় তাদের অনেকেই ধর্ম মানে না বিধায় তাদের কাছ থেকে সমালোচনা বেশি আসবে এটাই স্বাভাবিক।

দুই। ইসলামের ব্যপারারে সন্দেহ দূর করে তাই সমালোচনা করা যাবে না বলাটা বইয়ে ম্যানশন করা যুক্তির চাইতেও হাস্যকর। গ্রামের ওঝাও তো ম্যাজিক বা হাতের ট্রিক্স দেখিয়ে বলে জ্বিন করছে তারপর কোরান থেকে আয়াত টায়াত মেনশন করে গ্রামবাসীর ঈমান পোক্ত করে। তার মানে কি তার পোষা চাকরানি জ্বিন দিয়ে করাচ্ছে মানতে হবে নাকি ওঝা সাহেব ঈমান পোক্ত করছে বলে? নিশ্চয়ই -না। তবে প্যারাডক্সিকাল সাজিদে যে সব বিজ্ঞান মেনশন করা হয়েছে বা যে সব যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে সেই গুলো সুডোসায়েন্স। বিজ্ঞান নিয়ে যারা কাজ করে তাদের কাছে হাস্যকর। ঠিক যেমনটা হাস্যকর ওঝার জ্বিনের নাম করে ম্যাজিক দেখিয়ে গ্রামবাসীদের ঈমান শেখানো। গ্রামবাসী আর ওঝা দুইই হাস্যকর। কারণ তারা মনে করে তুড়ি মেরে ম্যাজিক উড়িয়ে দেয়া যায় না। এইটা মনে করার পেছনের কারণ যুক্তি নয় বরং অন্ধ বিশ্বাস।

তিন। ইসলামকে সায়েন্স বা যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্টা করা যায় না বলাটা চরম ভুল। কারণ এই বইটার লেখাই হয়েছে যুক্তি দিয়ে ইসলামকে পোক্ত করার জন্য। আবার যারা এই প্রতিষ্টা চান তারাই বলছে যেহেতু সব যুক্তি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যায় না তো এই বইই ঠিক। এক মুখে দুই কথা বলা হচ্ছে না? বলছেন যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্টিত করার কিছু নাই আবার বলছেন যুক্তি যেহেথু আছে তাহলে এটাই ঠিক। যা হোক, ব্যক্তিগত দোষ না ধরে বরং বলি – ধর্ম মানেই যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা হতে হয়। ভুল যুক্তি না। আমাদের রাসূলুল্লাহ (স) যুক্তি দিয়েই বুঝিয়েছিলেন সেই সময়ে আরব অঞ্চলে প্রচলিত অন্য ধর্ম গুলো চাইতে ইসলাম বেশি যৌক্তিক। তাই মানুষ সেই অঞ্চলে আস্তে আস্তে ইসলাম মেনেছিলো। ফলে আমরা আমরা বলতেই পারি ধর্ম যুক্তিহীন পালনের বিষয় নয়।

শেষ কথায় বলতে হচ্ছে,

“যে জনপদ যুক্তি-বিজ্ঞান কপচায় প্যারাডক্সিকাল সাজিদের মতো বাচ্চা ছেলে ভুলানো গল্পের অবৈজ্ঞানিক আর হাস্যকর যুক্তির বই পইড়া তাদের সাথে যুক্তিতে নামা যেমন অযৌক্তিক তেমনি তাদের মাঝে বিজ্ঞানবোধ তৈরি করতে যাওয়াটাও বোকামি আর সময় নষ্ট ছাড়া কিছু নয়৷

একটা সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধিকে “জনসংখ্যার বিস্ফোরণ” বলা হতো। এখন নিউজ, বই ফই আর মানুষের আলোচনা দেখে মনে হয় জনসংখ্যার নয়, “গর্দভের বিস্ফোরণ” হয়েছে।”

Opinion and Criticism by 

Ahmed Sanny

This Post Has One Comment

  1. 👍👍👍

Leave a Reply

Close Menu