দৃশ্যমান মহাবিশ্ব : দিন-রাত্রি, চন্দ্র কলা কীর্তন, চন্দ্র গ্রহণ, সূর্য গ্রহণ

দিনের পরে আসে রাত্রি। রাত্রির পরে দিন। রাতে আকাশে থাকে না সূর্য; দিনে থাকে, এটাই দিন আর রাতের পার্থক্য। আকাশ গোলক যেন দিনে মনে হয় নীল হয়ে যায় সূর্যের উপস্থিতিতে। রাতে তার অনুপস্থিতিতে হয় অন্ধকার। দেখা মেলে আরও হাজারও জ্যোতিষ্ক। আকাশের দিকে তাকালে মনে সূর্য আকাশের আকাশ গোলক ধরে পুব দিক ধরে চলে পশ্চিমে দিগন্তর অন্তরালে হারিয়ে যায়। যদিও আসলে সূর্যকে ঘিরে চলার পথে পৃথিবীর নিজেই নিজ অক্ষের উপরে পাক খায়।

যার ফলশ্রুতিতে হয় দিবা-রাত্রি। আর ওখানে পৃথিবী বিবেচনায় আনলে সূর্য ঠিক মাঝ বরাবর প্রদক্ষিণ করে না করে একটু কাত হয়ে, এর কারণ পৃথিবী নিজেই রয়েছে একটু কাত হয়ে। তাই এমনটা দেখা যায়।

ছবি 4 :  আপাত ভাবে মনে হয় সূর্য আমাদের তথা পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরছে একটু কাত হয়ে।  যার মান 23.5 ডিগ্রি।

পৃথিবীর কাত হয়ে ঘুরা ও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার জন্য আমরা ঋতু বা weather পরিবর্তন পাই। সাথে দিন রাত্রির পরিমাণেও ভিন্নতা পাই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভন্ন সময়ে।

 

ছবি 5 : যদিও প্রকৃত পক্ষে পৃথিবী 23.5 ডিগ্রি পরিমাণে কাত হয়ে প্রদক্ষিণ করছে সূর্যকে। পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে উপলব্ধি করি শীত গ্রীষ্ম সহ অন্যান্য ঋতু ও দিন রাত্রির বৃদ্ধি হ্রাস – যা ছবিটিতে ফুটে উঠেছে।  

ওদিকে সূর্যকে ঘিরে যখন পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে তখন রাতের বেলা সূর্য যে পথে দিনে প্রদক্ষিণ করেছিল সেই পথে কোন না কোন নক্ষত্র চিত্র বা Constellation কে  প্রদক্ষিণ করতে দেখা যায়। বছরে দেখা যায় বারোটি কোনস্টেলেশন এর চলা।  বছর জুড়ে এই বারোটি মন্ডল এ পথে দেখা যায় তারপর আবার পুনরাবৃত্তি শুরু হয় পরের বছর থেকে। যেন একটি চাক্রিক পদ্ধতি। এই চক্র টিকে বলে রাশি চক্র বা Zodiac। খালি চোখে দৃশ্যমান গ্রহ গুলো কেও এই পথে দেখা যায়। কারণ সূর্য সহ সব একই প্লেনের বা তলের উপরে অবস্থিত।

ছবি 6 : রাশি চক্র বা Zodiac এর অবস্থান বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্য ও পৃথিবীর চলার পথের সাপেক্ষে।

আপাত দৃষ্টিতে মনে হওয়া পৃথিবী ঘিরে ঘোরা সূর্য ছাড়া যে আরেকটা জ্যোতিষ্ক পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে তার নাম চাঁদ। তবে ঠান্ডা আলোর চাঁদ পৃথিবীকে ঘিরে ঠিকই ঘুরছে, সূর্যের মতো দৃষ্টিভ্রম তৈরি করছে না।  ঠাণ্ডা আলোর বললার কারণ সূর্যের আলোয় যে তেজ থাকে চাঁদের আলোয় তার বলতে গেলে কিছুই থাকে না। সূর্যের নিজস্ব আলো আছে সেই তুলনায় চাঁদ শান্ত শিষ্ট ভদ্র। চাঁদের নিজের কোন আলো নেই। সূর্যের আলো এর উপরে পরে প্রতিফলিত হয় বলে আমরা একে দেখি। চাঁদের অবস্থান ভেদে দেখি চাঁদের কলা বা Moon Phase।

চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, কিন্তু তার একটি দিক স্থির হয়ে থাকে পৃথিবীর দিকে, তাই চাঁদের বিপরিত দিকটি দেখতে পাই না। আবার বলি, পৃথিবী ঘুরছে সূর্যকে ঘিরে, চাঁদ ঘুরছে পৃথিবীকে ঘিরে। এই ঘোরাঘুরির ফলেই চাদকে আমরা দেখি বিভিন্ন রূপে; বিভিন্ন আলোকিত অবস্থায়। একেক ধরণের আলোকিত অবস্থাকে বলি একেকটি কলা বা Phase । পুরনাঙ্গ আলোকিত অবস্থাকে বলি পূর্ণিমা, আর যখন ঘোরাঘুরির এমন অবস্থা হয় যে, চাঁদের যে পিঠটি আমাদের দিকে থাকে তাতে কোন আলো পরে না তখন চাঁদ দেখা যায় না। আমরা বলি একে আমাবস্যা।

ছবি 7 : চাঁদের অবস্থান ভেদে  চাঁদের কলা 

এই চাঁদ আর সূর্যের চলাচলের জন্য আরেকটা প্রাকৃতিক ঘটনা (Phenomenon) দেখি যাকে বলি গ্রহণ বা Eclipse। চন্দ্র সূর্যের দুই ধরণের গ্রহণ হয়, চন্দ্র গ্রহণ (Moon Eclipse) এবং সূর্য গ্রহণ (Sun Eclipse)।

চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী-চাঁদ-সূর্যের অবস্থান এমন হয় যে চাঁদে পৃথিবীর ছায়া পরে যার জন্য আঁধারে পরে দৃষ্টিতে আর পরে না, আবার সূর্য গ্রহনের সময় চাঁদ চলে আসে পৃথিবী আর সূর্যের মাঝে। যার জন্য চাঁদের ছায়ায় দেখা যায় না সূর্যকে। তখন যেন হঠাৎ নেমে আসে অন্ধকার। এটি সূর্য গ্রহণ। আবার যখন আবার যখন চাঁদ বা সূর্যের ছায়ার আড়াল পুরনাঙ্গ ভাবে হয় না মানে আংশিক আড়ালে চলে যায় তখন বলি আংশিক গ্রহণ; Partial Eclipse ।

সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ এরা চাঁদ পৃথিবীর নিরন্তর ছুটে চলার মাঝে একধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র, এর বেশি কিছু নয়। তবে চমকপ্রদক ঘটনা অবশ্যই।

ছবি 8 : সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর পুরো এক পাক ঘুরে আসার সময় চারটি অবস্থায় চাঁদের দুইটি করে অবস্থা দেখা যাচ্ছে ছবিটিতে। ছায়ার তারতম্য থেকে সহযেই অনুমান করা যায় কখন আর কি কি অবস্থায় গ্রহণ গুলো হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন যে অতীতে যখন আমরা জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) জানতাম না তখন আকাশের এইসব কল্পিত ছবি গুলোর সাথে আমাদের প্রত্যেকদিনের জীবন প্রবাহের ঘটনা গুলো মেলানোর চেষ্টা করতাম। মনে করতাম রাশি চক্র বা Zodiac সহ আরো নানাবিধ ঘটনা আমাদের আচার আচরণ সহ অনেক কিছুতে প্রভাব ফেলে। এই ধরণের কল্পিত তথ্য গুলোকে বলাহয় জ্যোতিঃশাস্ত্র বা জ্যোতিষবিদ্যা, ইংরেজিতে – Astrology; যারা আদিম কল্পনার জগত থেকে বের হতে পারেনি তারা এখনো এস্ট্রোলজির কাল্পনিক তথ্য গুলোকে সত্য বলে মনে করে।

 

Leave a Reply

Close Menu