বিজ্ঞানীর কাজ কী?

” বিজ্ঞানী শুনলে আমরা কেন যেন মনে করি নিশ্চয়ই সেই বিজ্ঞানীর কিছু দৃশ্যমান আবিষ্কার আছে। সেটা খুজি। না পেলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি। তো সে যত মহানই হোন না কেন! কিন্তু একটা বিষয় সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল নই সেটা হলো বিজ্ঞানীর কাজ দৃশ্যমান কিছু আবিষ্কার নয়। আবিষ্কার হলো বিজ্ঞানীর কাজের উপরে ভিত্তি করে প্রকৌশলের সাহায্যে কোন না কোন প্রডাক্ট তৈরি ও ডেভলপমেন্ট করা৷ সেটা যেমন একজন বিজ্ঞানী করতে পারেন তেমনি পারেন একজন প্রকৌশলী অথবা পারেন যে কোন ব্যক্তি মানুষ। আর এই আবিষ্কারের জন্য তিনি পরিগনিত হয়ে থাকেন আবিষ্কার হিসেবে।

তাহলে বিজ্ঞানীর কাজ কী? বিজ্ঞানীর কাজ তত্ব অনুসন্ধান করা। তত্ব কী? তত্ব হলো যৌক্তিক ও পরিক্ষিত কাঠামো অথবা মডেল, যা দিয়ে আমরা প্রকৃতির ঘটনা গুলোকে ব্যখ্যা করতে পারি। ছক কেটে বলতে পারি একটা ঘটনার পেছনের কারণ গুলো এবং সেই কারণ গুলো ভবিষ্যৎ কালে কি রকম আচরণ করবে সে গুলোকেও।

তাই হকিং কি আবিষ্কার করেছে, আইনস্টাইন কি ঘোড়ার ডিম করেছে, আপনি তিনি বিজ্ঞানী তো আপনারা কি আবিষ্কার করেছেন এইসব প্রশ্ন অবান্তর। এবং তাদের প্রকৃত কাজ ও গুরুত্ব বুঝার জন্য এই ধরণের প্রশ্ন না করে তাদের গবেষণা প্রবন্ধতে চোখ বুলাতে হবে। নইলে আপনার প্রশ্ন যথাতথা হাস্যকর ঠেকবে। কিছু করার নাই। ” 

আহমেদ সানি

পরিচিত একজন বিজ্ঞান এক্টিভিস্ট হিসেবে। প্রায়ই বাংলায় বিজ্ঞান নিয়ে বক্ত্রিতা ও লেখালেখি করেন। পদার্থবিদ্যায় হাই ইন্টেন্স লাইট ও ম্যাটারের ইন্টার‍্যাকশন বিষয়ক গবেষণার সথে সংযুক্ত।

Leave a Reply

Close Menu