তোমাদের স্বার্থপরতার ছাত্র রাজনীতি

তোমাদের রাজনীতি কি হলের সিট, চাকরি পাওয়া, টংয়ের দোকানে মাগনা বা বাকি খাওয়া, চাদাবাজি, অন্ধ কিংবা নির্লজ্জজের মতো তেলবাজি বা গ্রুপিং করে একজন অন্য জনের পিছে লাগা ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে কিছু করেছো?

আমরা কিন্তু দেখি নাই তুমরা বাসের ড্রাইভার রঙ সাইডে ওভারটেক করছে দেখে বকা দিচ্ছো। আমরা কিন্তু দেখি নাই তুমরা যাচ্ছে তাই রিক্সা চালাচ্ছে বলে লাইনে এনেছো। আমরা দেখি নাই তুমরা সংগঠনের জোরে সবাইকে নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করছো কিংবা যত্র তত্র যারা ময়লা ফেলছে তাদের বকে দিচ্ছো। বরং আমরা দেখেছি তুমরা রঙ সাইডে বাস নিয়ে শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছো। আমরা দেখেছি তুমরা রিক্সাওয়ালাকে ধমকে ছোট রাস্তায় গিট্টু লাগিয়ে জ্যাম বাধাচ্ছো। পাচ টাকা দুইটাকা কমের জন্য কষে চর দিচ্ছো। তাও শুধু নিজের বেলায়। পাশে অন্যায় ভাবে কেউ অন্য কোন মানুষের কাছে বেশি ভাড়া চাইলে তুমিরা কিছু বলছো না। যা করছো শুধুই নিজের জন্য। নিজেদের কিংবা নিজের জন্য ক্ষমতা উপভোগ করা ছাড়া আর কি করছো তোমারা যারা হাজার হাজার ছাত্র রাজনীতি করছো তারা?

জানি দুই একজন ব্যতিক্রম আছে৷ তাদের চেহারা দেখিয়ে বলবে এইতো আমাদের ভালোমানুষ ছেলে কিংবা মেয়ে আছে যে রাজনীতি করছে। কিন্তু সেটা শতকে দুই থেকে তিন জন। অথচ হবার কথা ছিলো দুই থেকে পাচ জন অকেজো কিংবা বদ, দুশ্চরিত্রের। পঁচানব্বই জনের হবার কথা ভালো প্রতি শতকে। কিন্তু হয়েছে উল্টোটা। পচানব্বই জন করছে রাহাজানির প্রাক্টিস। তাই রাহাজানি যারা করে বা করতে চায় তারাই আসছে রাজনীতি করতে, করছেও। ফলে ছাত্র রাজনীতি একটা দূষণ বই বেশি কিছু হতে পারছে না। তা সে ছাত্রলীগ হোক, হোক ছাত্র দল, অথাবা হোক জামাতি-বামাতি!

অথচ ছাত্ররাজনীতির ছেলে মেয়েদের হবার কথা ছিলো স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে স্বেচ্ছাসেবা করা। জনগণের জন্য কাজ করা। নিজের জন্য নয়। আর স্বেচ্ছাশ্রম দেবার ইচ্ছা না থাকলে রাজনীতিতে না আসা। খুব সিম্পল মেকানিজম।

Leave a Reply

Close Menu